স্বরূপকাঠীর পেয়ারা দেশ ছাড়িয়ে সুখ্যাতি অর্জন করেছে বিদেশেও। স্বরূপকাঠীর পেয়ারাকে অনেকেই বলে থাকেন বাংলার আপেল। আর এই পেয়ারা কেনা-বেচার হাটও খ্যাতি পেয়েছে সর্বত্র। কারণ অন্য দশটা হাটের চেয়ে ব্যতিক্রম এই হাট। নদী বেষ্টিত ঝালকাঠির স্বরূপকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাট নজর কেড়েছে সবার।

আশির দশকের প্রথম দিকে উপজেলা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্ব দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে প্রতি সোম ও শুক্রবার মানপাশা বাজারের কাছে বসে এ হাট।

স্থানীয়দের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে আটঘর কুড়িয়ানায় চাষ হচ্ছে স্থানীয় জাতের পেয়ারা। জুন থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ৫ মাস চলে বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ। এ মৌসুমে সহজে পথ চলাসহ ফলফলাদি বহনের প্রধান বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হয় নৌকা। বছরের অন্য সময় নৌকার চাহিদা কম থাকলেও বর্ষা ও পানির মৌসুমকে কেন্দ্র করে জমে উঠছে নৌকার হাটও।

ছোট ছোট নৌকায় করে বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হয় বিভিন্ন খালের ভাসমান হাটে। সেখান থেকে বড় ট্রলার, ট্রাক ও লঞ্চযোগে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতি হাটেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পেয়ারা কিনতে যান ব্যবসায়ীরা। তাদের পদচারণার পাশাপাশি অনেকেই যান ভাসমান এই পেয়ারার হাট দেখতে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৬ শ একর জমিতে স্থানীয় জাতের পেয়ারা চাষ হয়। উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠী, কঠুরাকাঠী, আতা ও মাদ্রাসহ ২৬টি গ্রামে পেয়ারা চাষ হয়। ২ হাজার ২৫টি পেয়ারা বাগানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের ৫ সহস্রাধিক সদস্য। পেয়ারার ফলন ভালো হলে হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয় ৮-৯ মেট্রিক টন।