এক বছরে পনেরো কাঠা জমি থেকে ফুল বিক্রি করে পাঁচ লÿ টাকা আয়, কথাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানীরা হাতে কলমে চাষ করে প্রমান করেছেন অর্কিড ফুল চাষে এই লাভের অংকটা. বিজ্ঞানীদের এই ফুল চাষের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে দÿিন বঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া থেকে দÿিন চব্বিশ পরগনা জেলার অনেক কৃষক এই বিশেষ ধরনের ফুল চাষ শুরু করে দিয়েছেন এবং হাতে নাতে তার ফল পাচ্ছেন। অর্কিড ফুল সাধারনত পূজোর কাজে লাগে না। কোনো অনুষ্ঠান বা ঘর সাজাতে এর জুড়ি মেলা ভার. অর্কিড ফুল চাষের জন্য মাটির প্রয়োজন হয় না। মাটি থেকে তিন ফুট উচুতে মাচা তৈরি করে এর চাষ হয়। অর্কিড ফুল চাষ করতে গেলে ১৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা পছন্দ করে। তবে ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা হলে গাছ মারা যায়, সেই কারনে পলি হাউসে এর চাষ উপযুক্ত পরিবেশ। সারা পৃথিবীতে যে পরিমান অর্কিড ফুলের চাষ হয় তার ৪০% চাষ হয় হল্যান্ডে আর ৩০% চাষ হয় থাইল্যান্ডে। থাইল্যান্ডের অর্কিড ফুলের জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে অর্কিড ফুলের চাষ হয়। ইতিমধ্যে বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্কিড ফুল চাষের প্রশিÿন নিয়ে সাফ্যলের মুখ দেখতে শুরু করেছেন নদীয়া জেলার নাকাশি পাড়া বøকের কৃষক ভুষন দে ও ডহরখোলা গ্রামের আনন্দ বিশ্বাস। তারা সাড়ে সাত কাঠা জমিতে এই অর্কিড ফুলের চাষ শুরু করেছেন। প্রগতিশীল কৃষক ভুষন দে বলেন এতদিন পর্যন্ত আমরা পলি হাউসে জারবেরা ফুলের চাষ করতাম, বাজারে অর্কিড ফুলের চাহিদা থাকায় এই নতুন ফুল চাষ শুরু করলাম।আশা করি লাভের পরিমান অনেক বেশি থাকবে। বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞানী ড. তাপস চৌধুরী বলেন অর্কিড ফুল চাষে রোগ পোকার আক্রমন তেমন হয় না, বছরে দুবার ফুল পাওয়া যায় জুন জুলাই মাসে একবার আর অক্টোবর নভেম্বর মাসে আর একবার। ১৫ কাঠা পলি হাউসে ১০ হাজার চারা লাগানো যায়. একটা গাছ থেকে বছরে চারটে স্টিক পাওয়া যায়। প্রতিটি স্টিকে ৪ থেকে ১০ টি ফুল পাওয়া যায়। ৪ থেকে ৬ ফুলের স্টিকের বাজার দর দশ টাকা, ৬ থেকে ৮ টি ফুলের বাজার দর পনেরো টাকা এবং ৮ থেকে ১০ টি ফুলের একটি স্টিক বাজার দর কুড়ি টাকা।সবথেকে বাজার দর কম ধরলে এই ১০ হাজার ফুল গাছ থেকে বছরে চার লÿ টাকার ফুল বিক্রি হতে পারে। প্রথম অবস্থায় পলি হাউস তৈরি খরচ ১৫ লÿ টাক,া চারার দাম ২ লÿ টাকা। তবে উদ্যান পালন দপ্তরের কাছে আবেদন করলে অধের্ক টাকা ছাড় পেতে পারেন কৃষকরা। মাটি থেকে তিন ফুট উচুতে মাচা তৈরি করে কোকোবøকে এর চাষ হয়। এন.পি.কে সার মাঝে মাঝে জলে গুলে স্প্রে করতে হয়। সাতটি ফুলের জাত যেমন ডেনডোরিয়াম, নোবিলিস, সোনিয়া, পিঙ্ক স্টিক, পি.এইচ, স্টেল রেড, বি হোয়াইট জাম্বো চাষ করা যেতে পারে। একবার চাষ করলে কম করে ৮ বছরে এর থেকে ফলন পাওয়া যাবে।