রাজ্য জুরে শুরু হয়েছে ডেঙ্গুর দাপাদাপি, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন বেশ কিছু লোক। সরকার এবং বিরোধীদের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে চাপান উতোর শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন ডেঙ্গু মোকাবিলায়। কিন্তু কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না ডেঙ্গুকে। এমত অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গাপ্পি মাছ ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা। কি এই গাপ্পি মাছ, কোথায় থাকে, কি কাজ করে। কয়েকজন মৎস্য বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে গাপ্পি একটি রঙীন মাছ লেজ ও পাখার উপর বিভিন্ন কারুকার্য করা থাকে। পুরুষ গাপ্পি নারী গাপ্পির থেকে আকারে ছোট হয়। হলদিয় বøকের মৎস্য সম্প্রসারন আধিকারিক সুমন সাউ বলেন গাপ্পি বাচ্চা মাছ জন্ম দেয়। গাপ্পি মাছ পেটের ভিতর তা দেয় এবং সেখানে বাচ্চার জন্ম নেয়। পুরুষ গাপ্পি ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং স্ত্রী গাপ্পি মাছ ২ থেকে ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এরা ২০ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এদের পছন্দ হয়। গত কয়েক বছর আগে দÿিন দমদম পৌরসভার উদ্যোগে কিছু গাপ্পি মাছ ছাড়েন নিকাশি নালায়, কিছুদিনের মধ্যে সাফল্য পাওয়া যায়। ১৯০৩ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে মশা প্রতিরোধ করার জন্য এদের ব্যবহার করা হচ্ছে। গাপ্পি সাধারনত নোংরা ড্রেনে, পচাঁ পুকুরের জলাশয়ে থাকতে ভালোবাসে। ২৪ ঘন্টায় একটি গাপ্পি মাছ ৮০ থেকে ১০০ টি মশার লার্ভা খায়। একটা গাপ্পি মাছ এক সপ্তাহে ৫০ থেকে ২০০ টি বাচ্চা পাড়ে। আই.সি.এ.আর এর বিজ্ঞানী ড. বি.কে মহাপাত্র বলেন গাপ্পি সাড়া বছর বংশ বি¯Íার করেন। একবার জলাশয়ে ছাড়লে সারা বছর ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রোগের বাহক মশার লার্ভা খেয়ে থাকে। এরা রাÿসে মাছ, তবে নিকাশি নালা ও নোংরা জলাশয়ে যেমন এরা থাকতে পারে তেমনি এ্যাকুরিয়ামে এদের খুব সহজেই লালন পালন করা যায়। দমদম টালিনালা ও বরাহনগরে প্রচুর পরিমানে গাপ্পি দেখা যায়। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কৃষি নিজ্ঞান কেন্দ্রের মৎস্য বিজ্ঞানী অলিন্দ নায়েক বলেন যদি কোনো পঞ্চায়েত বা পৌরসভা কৃষি নিজ্ঞান কেন্দ্রের কাছে মাছ কেনার জন্য আবেদন করে তাহলে আমরা মাছ পৌছে দিতে পারি। সেÿেত্রে মাছের সাইজ অনুযায়ী দাম পড়বে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রতি হাজার। যেখানে লÿ লÿ টাকা খরচ করে ডেঙ্গু প্রাতরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে মাত্র কয়েক হাজার টাকা খরচ করে গাপ্পি মাছ চাষ করলে মশা বাহিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।